মেনু নির্বাচন করুন

সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের ইতিহাস

সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নটি ঢাকা মহানগরীর আদি ও অকৃত্রিম অঞ্চলটিকে বলা হয়। বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাধারণ বাঙালী সংস্কৃতি থেকে এখানকার সংস্কৃতি অনেকটাই ভিন্নতর। সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব-পশ্চিমে লাবাগ খানা থেকে হাজারীবাগ ট্যানারি মোড় পর্যন্ত এবং দক্ষিণে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। মূলত মহান মুক্তিযুদ্ধের পর সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নটি গড়ে ওঠে। সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের নামকরণের সঠিক ইতিহাস নিয়ে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে। কামরাঙ্গীরচর থানার অধীনে সুলতানগঞ্জ ইউনিয়ন অবস্থিত। এই ইউনিয়নের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় বাহন হলো রিকশা। এই প্রাচীন ইউনিয়নের রাস্তাগুলো খুব সরু হওয়াতে রিকশা এখানকার প্রধান বাহন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া যান্ত্রিক বাহনগুলোর মধ্যে টেম্পো, সি.এন.জি. চালিত অটোরিকশা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান হওয়ায় মালপত্র আনা-নেয়ার জন্য গভীর রাতে এই ইউনিয়নের সড়কগুলো ট্রাকের দখলে চলে যায়। এখানকার স্হানীয় অধিবাসীরা মূলতঃ ব্যবসায়ী। বংশ পরম্পরায় তারা ব্যবসা করে আসছে। বহিরাগত অনেক লোক এখানে চাকুরী করে থাকে। এই ইউনিয়নের লোকেরা চালাক-চতুর, কিন্তু ব্যবহারে খুবই অমায়িক হয়ে থাকেন। বয়স্ক ব্যক্তিদের অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধা দেখানো হয়। এখানকার সংখ্যাগুরু লোকের ধর্ম ইসলাম। তারা ঢাকা'র অন্য এলাকার মানুষের তুলনায় অধিকতর ধর্মসচেতন। প্রায় প্রতিটি মহল্লায় একটি অথবা দু'টি করে মসজিদ রয়েছে। হিন্দু ও ঈসায়ী, এ দুই সম্প্রদায়ের লোকজনও রয়েছেন। ঈদ-উল-ফিতর, ঈদ-উল-আযহা ও শবে বরাত সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। পহেলা বৈশাখ বা বৈশাখীও এখানে সাড়ম্বরভাবে পালিত হয়। পৌষ সংক্রান্তির দিনে লোকজন ঘুড়ি উৎসবে মেতে ওঠে। প্রতিবছর ১৪ বা ১৫ই জানুয়ারী এ উৎসব পালিত হয়। স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বাড়ির ছাদে ঘুড়ি উড়ানো হয়। উত্তর ভারতীয় এ ঘুড়ি উৎসবটিকে স্থানীয়রা 'সাকরাইন' নামে অভিহিত করে। হযরত হাফেজী হুজুর (রহঃ) এখানে বসবাসের ফলে সুলতানগঞ্জের সম্মান অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ইউনিয়নের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান মরহুম হাজী আব্দুল আউয়াল সাহেব। তিনি অত্যন্ত দানশীল ব্যাক্তি ছিলেন। বর্তমানে তার নামে অনেক গুলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।